Connect with us

চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস হুবেই প্রদেশ, চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

Avatar

Published

on

wuhanchina1000x600

আমার হুবেই প্রদেশকে জানুন! চীনের কেন্দ্রীয় প্রদেশ হলো হুবেই প্রদেশ। হুবেই এর অর্থ হলো ‘হ্রদের উত্তর’ কেননা এটি ডংটিং হ্রদের উত্তরে অবস্থিত। ঊহান হুবেই এর রাজধানী শহর।

হুবেই এর সাথে হেনান, আনহুই, জিয়াংসি, হুনান, চংকিং এবং শানসি প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে। ‘থ্রী জর্জেস ড্যাম’ হুবেই প্রদেশের পশ্চিমে ঈচ্যাং শহরে অবস্থিত।

হুবেই এর ইতিহাস

কালো মৃত্যুর প্রাদুর্ভাব হুবেই প্রদেশকে ১৩৩৪ ও ১৩৬৮ সালে ধ্বংস করে ফেলেছিল। মিং শাসকদের দ্বারা মোঙ্গলরা বিতাড়িত হয়।

বর্তমানের ঊহানে উচ্যাং বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল ১৯১১ সনে। কিং রাজবংশকে অপসারন করে চীনা প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওয়াং জিংগুয়েই পরিাচালিত কুওমিংটাং এর বাম শাখা ঊহানকে সরকারের একটি সীটে পরিনত করেন। এই সরকার নানজিং এর চিয়াং কাই শেকের সরকারের সাথে যুক্ত হয়। দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ওয়ারের সময়ে জাপান হুবেই এর পূর্বাংশ দখল করে নেয়। পশ্চিমাংশ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বরাবর চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

১৯৯৩ সনে ঈচ্যাং এর নিকট ইয়াংতজি নদীর উপরে ‘থ্রী জর্জেস ড্যাম’ নির্মান শুরু হয়।

হুবেই এর ভৌগলিক অবস্থান

মধ্য ও পূর্ব হুবেই এর অধিকাংশ অঞ্চল সমতল। পশ্চিমাঞ্চল পর্বতময়, সেখানে ঊডাং, ডাবা এবং জিংশান পর্বতসমূহ রয়েছে। উত্তর-পূর্বে ডেবী পর্বত, উত্তরে টংবি পর্বত এবং দক্ষিণ-পূর্বে মুফু পর্বত রয়েছে। শেনং শৃঙ্গ হচ্ছে হুবেই এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এই শৃঙ্গ ডাবা পর্বতমালায় অবস্থিত এবং উচ্চতা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৩১০৫ মিটার উচ্চে।

হুবেই পূর্বদিকে ইয়াংতজি নদী দ্বারা বেষ্টিত। থ্রী জর্জসের মধ্য দিয়ে এই নদী প্রবাহিত। শেং নং ও হানশুই নদী উত্তর দিক থেকে বয়ে গিয়েছে। ইয়াংতজি নদীর উপনদী শেং নং থ্রী জর্জেস ড্যাম প্রকল্প দ্বারা ক্রমহ্রাসমান হয়েছে। ইয়াংতজি ও হানশুই নদীর মোহনায় রাজধানী শহর ঊহান অবস্থিত।

হুবেইকে হ্রদের প্রদেশ বলা হয় কেননা এখানে হাজার হাজার মনোহারী হ্রদ রয়েছে। সবচেয়ে বড় হ্রদগুলির মধ্যে রয়েছে হংঘু ও লিয়াংজি হ্রদ।

হুবেই এ প্রায় গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু ও বিশিষ্ট কয়েকটি ঋতু বিদ্যমান। শীতকালে ১-৬ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা এবং গ্রীষ্মে ২৪-৩০ ডিগ্রী সে.। রাজধানী শহর ঊহান হচ্ছে সবচেয়ে গরম শহর এবং গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সে. পর্যন্ত উঠে যায়। শাশী, শিইয়ান জিংমেন এবং ঊহান হলো হুবেই এর প্রধান প্রধান শহর।

হুবেই প্রদেশের স্থানীয় অর্থনীতি

গম, চা, তুলা এবং ধান হচ্ছে হুবেই এর প্রধান কৃষিজাত পন্য এবং উচ্চ প্রযুক্তির জিনিসপত্র, মেটালার্জি, শক্তি উতপাদন, টেক্সটাইলস, খাদ্যসামগ্রী, যন্ত্রপাতি এবং অটোমোবাইল্‍স হলো হুবেই এর প্রধান প্রধান শিল্প। হুবেই এ প্রচুর পরিমানে খনিজ সম্পদ বিদ্যমান, যেমন, লোহা, ভ্যানাডিয়াম, জিপসাম, ফসফরাস, বোরাক্স, রক সল্ট, কপার, হংশিইটি, মার্লস্টোন, ওলাস্টনাইট, গারনেট, রম্নটাইল, ম্যাঙ্গানিজ এবং গোল্ড এমালগাম। পশ্চিম হুবেই এ থ্রী জর্জেস ড্যাম সমাপ্তির পথে এবং এটি সমাপ্ত হলে জলবিদ্যুত উতপন্ন হবে যা চীনের বিদ্যমান জলবিদ্যুত শিল্পে যোগ হবে। থ্রী জর্জেস ড্যাম বছরে ৮৪,৭০০ জিডবিস্নউএইচ বিদ্যুত শক্তি উতপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৭ সনে হুবেই এ সর্বনিম্ন জিডিপি ছিল ৯১৫ বিলিয়ন ইউয়ান এবং মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১৪,৭৩৩ আরএমবি। হুবেই এর অর্থনীতি চীনের দ্বাদশ বৃহত্তম অর্থনীতি।

হুবেই প্রদেশের স্থানীয় সংস্কৃতি

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অন্যতম প্রধান একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হলো হুবেই এর রাজধানী ঊহান। হুবেই এর আছে মুখে জল আনার মতো বেশ কিছু খাবারের তালিকা তার মধ্যে একটি হলো ‘ফিশ অব ঊচ্যাং’।

হুবেই এ অনেক চীনা ঐতিহ্যগত অপেরা রয়েছে তার মধ্যে চুজু ও হানজু অন্যতম।

হুবেই প্রদেশের স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা

চীনে যোগাযোগ শিল্পে হুবেই প্রদেশের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে কেননা এখানে হানশুই ও ইয়াংতজি নদীতে অনেক পানিপথ রয়েছে। হুবেই প্রদেশে অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ রেল সংযোগ ও রয়েছে যেমন, ‘ঝিচেং-লিউজু’ অথবা ‘বেইজিং-কাউলূন’ ইত্যাদি। ঊহান, সানজিয়া, ঈচ্যাং, শানসি ও জিয়ানফ্যানে রয়েছে পাঁচটি স্থানীয় বিমানপথ।

হুবেই এ যা যা দেখার আছে

হুবেই এ দর্শনযোগ্য বিখ্যাত অনেককিছুই রয়েছে কেননা এটি পূর্ব ঝূ রাজবংশ শাসিত চু রাষ্ট্রের কেন্দ্র ছিল। এর নিজস্ব চমতকার সংস্কৃতি রয়েছে। ভ্রমণকারীরা এখানে জিউগং পাহাড়, জিংঝু শহর, থ্রী জর্জেস ড্যাম অথবা উডাং পর্বতমালা দেখতে পারেন।

enEnglish esEspañol zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস আনহুই প্রদেশ, চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

Avatar

Published

on

Anhui Province

সতের শতকের পূর্বে আনহুই প্রদেশের কোন যুক্তিগত বা রুপগত কোন অস্তিত্ব ছিল না। এখন পর্যন্ত হেনান প্রদেশ, উত্তর আনহুই অধিকাংশ ক্ষেত্রে উত্তর চীনের সমতলের সংস্কৃতি অনুসরণ করে। হুয়েই হে নদী বিধৌত মধ্য আনহুই উর্বর ভূমি এবং ঘনজনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসাবে পরিগনিত।

এর সংস্কৃতি হুবেই প্রদেশের সংস্কৃতির কাছাকাছি। আবার, দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য এলাকার জনগন নিজস্ব বহু বৈচিত্রপূর্ণ সংস্কৃতির অনুসরণ করে।

প্রকৃতিগতভাবে আনহুই প্রদেশ বৈচিত্রে ভরপুর। উত্তরের সঙ্গে যুক্ত হুয়েই হে নদী দ্বারা বিধৌত প্রদেশের উত্তর মধ্য অংশ চীনের উত্তরাংশের সমতলভূমির অন্তর্ভূক্ত। এই দু’টি অঞ্চল ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যমন্ডিত।

প্রদেশের দক্ষিণাংশের দিকে গেলে দেখা যাবে ,দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাই অসমতল। এই সমস্ত এলাকা ডেবী পর্বতমালা, পাহাড়-পর্বতের অন্তর্ভূক্ত যা আনহুই প্রদেশের দক্ষিণ-পুর্বাংশ অতিক্রম করেছে। দূই পর্বতমালার মধ্য দিয়ে ইয়াংতজি নদী বয়ে গেছে চীনের দক্ষিণের দিকে। আনহুই প্রদেশের সবো©চ্চ পর্বত শৃঙ্গ লোটাসের উচ্চতা ১৮৭৩ মিটার। এটা দক্ষিণ-পুর্ব আনহুই এর হুয়াংশান পর্বতমালার অংশ।

উত্তরাংশে প্রবাহিত হুয়েই হে এবং দক্ষিণাংশে প্রবাহিত ইয়াংতজি নদী আনহুই প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি নদী। ৮০০ কিলোমিটার আয়তনসমৃদ্ধ লেক চাওহু আনহুই প্রদেশের মধ্যাংশে অবস্থিত। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ইয়াংতজি নদীর কাছাকাছি লেকগুলির মধ্যে এটিই সর্ববৃহৼ।

উত্তরাঞ্চলের জলবায়ুর সাথে দক্ষিণের জলবায়ুর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

উত্তরের তাপমাত্রা অধিক নাতিশীতোষ্ণ এবং পরিস্কার ঋতুপূর্ণ। জানুয়ারী মাসে হুয়েই হে নদীর উত্তরে তাপমাত্রা থাকে -১ থেকে ২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এবং হুয়েই হে নদীর দক্ষিণে থাকে ০ থেকে ৩ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। জুলাই মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৭ ডিগ্রী সে.। জুন এবং জুলাই মাসে অধিকাংশ বৃষ্টিপাত হয় আর বন্যা হওয়ার ঘটনা বিরল।

অ্যানকিং, বেংবু, বোঝাও, হেফেই, হুয়াংশান সিটি, হুয়েইনান, মানশান এবং টংলিং পিপল্স রিপাবলিক অব চায়নার আনহুই প্রদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।

আনহুই প্রদেশের দর্শণীয় কয়েকটি স্থানঃ

ইউনেসকো কয়েকটি প্রাচীন স্থানকে যেমন জিডি গ্রাম, মাউন্ট হুয়াংশান এবং হংকুন গ্রামকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সেইসাথে মাউন্ট কীউন, মাউন্ট টিয়ানঝু, তুনসির প্রাচীন শহর এবং মাউন্ট জিউহুয়া হচ্ছে আনহুই প্রদেশের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান।

enEnglish esEspañol zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

Continue Reading

চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস হিলংজিয়াং প্রদেশ, চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

Avatar

Published

on

harbin1000x600

আমার হেইলংজিয়াং প্রদেশকে জানুন!হেইলংজিয়াং ছিল চীনা কমু¨নিস্ট নিয়ন্ত্রিত প্রথম প্রদেশ। প্রদেশের প্রধান শহর হারবিন যেটা হচ্ছে রাজধানী শহর। সোভিয়েত বাহিনী হেইলংজিয়াংকে চীনাদের কাছে সমর্পন করে। এটা জাপানীদের দখলে ছিল যারা ১৯৪৫ সনে সোভিয়েত বাহিনীর কাছে হেরে যায়। কম্যুনিস্টরা তখন হেইলংজিয়াং এর মাঞ্চুরিয়া থেকে চীনা গৃহযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।

হেইলংজিয়াং এর এলাকা সময়ে সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা বর্তমান প্রদেশের শুধুমাত্র পশ্চিম অংশ নিয়ে গঠিত ছিল এবং তখন রাজধানী ছিল কিকিহার। সংজিয়াং প্রদেশের বাকী অংশ দখল করলে পরবর্তীতে রাজধানী হয় হারবিন। ১৯৫৪ সনে অঞ্চলগুলো একত্রিত হয়ে বর্তমান হেইলংজিয়াং অঞ্চল গঠিত হয়। হেইলংজিয়াং পরবর্তীতে হুলুনবুইয়ার লীগ নামের মঙ্গোলিয়ান অংশ দখল করে। মাও সে তুং এর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় এটা সংঘটিত হয়।

হেইলংজিয়াং এর জলবায়ু

হেইলংজিয়াং এ শীতকাল দীর্ঘ হয় এবং এটি তীব্রতাসম্পন্ন। এখানে সাব-আর্কটিক আবহাওয়া বিদ্যমান। জানুয়ারী মাস শীতলতম যখন তাপমাত্রা -৩১ ডিগ্রী থেকে -১৫ ডিগ্রী সে. এর মধ্যে ওঠানামা করে। গ্রীষ্মে জুলাই মাসে গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রী থেকে ২৩ ডিগ্রী এর মধ্যে থাকে। গ্রীষ্মকাল ক্ষণস্থায়ী, মাঝে মাঝে ঠান্ডা থাকে। গ্রীষ্মকালেই বেশির ভাগ বৃষ্টিপাত হয়।

হেইলংজিয়াং এর ভৌগলিক অবস্থা

হেইলংজিয়াং এর অধিকাংশেই পর্বতমালা রয়েছে যেমন, ঝাংগুয়াংকাই পর্বত, লাওই পর্বত, লেসার খিংগান রেঞ্জ, গ্রেটার খিংগান রেঞ্জ এবং ওয়ান্ডা পর্বত। মাউন্ট দাতুডিংজি হচ্ছে সর্বোচ্চ শৃংগ এবং উচ্চতা ১৬৯০ মিটার অথবা ৫৫৪৫ ফিট। এটা জিলিন প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত। গ্রেটার খিংগান রেঞ্জ চীনের সবচেয়ে বড় বন এবং বন বিভাগের কার্যক্রম এই অঞ্চল থেকেই পরিচালিত হয়।

উত্তর সীমান্তে আমুর উপত্যকা রয়েছে। প্রদেশের অন্যান্য অংশ নীচু এবং সমতল। নদীগুলোর মধ্যে নেন, সংহুয়া এবং মুদান অন্যতম।

নদী এবং আমুর উপত্যকা সৃষ্ট যুক্ত নদীগুলো সমতলে প্রবাহিত। সীমান্তে রাশিয়ার প্রিমরস্কি ক্রাইসহ খানকা ও সিংকাই হ্রদ দেখা যাবে এই প্রদেশে।

হেইলংজিয়াং এর কয়েকটি বড় শহর রয়েছে। যেমন, ডাকিং, হারবিন, মুদানজিয়াং, শুয়াংজিয়াশান, জিয়ামুসি, ঈচুন, হেইহে, কিকিহার এবং হেগাং।

হেইলংজিয়াং এর স্থানীয় অর্থনীতি

হেইলংজিয়াং এ সেই সমস্ত ফসলই জন্বায় যেগুলি তীব্র শীত আবহাওয়ায় জন্বানোর উপযোগী। প্রধান শস্যগুলো হচ্ছে গম, ভুট্টা এবং সয়াবিন। সূর্যমূখী, তিসি এবং গাজর হচ্ছে এই এলাকার বানিজ্যিক ফসল সমূহ।

হেইলংজিয়াং বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ এবং চীনের চেরাই কাঠের প্রধান সোর্স। সাধারনতঃ কোরিয়ান পাইন ও অন্যান্য পাইন হচ্ছে চেরাই কাঠ তৈরীর প্রধান গাছ। এখানে লার্চ গাছও জন্বায় যেটা দিয়েও চেরাই কাঠ তৈরী হয়। ডাক্সিনগান ও জিয়াওজিংগান পর্বত সমূহে ভয়ংকর সাইবেরিয়ান বাঘের বাস, সেইসাথে বনবিড়াল ও লাল মাথাবিশিষ্ট সারস হেইলংজিয়াং এর বনে পাওয়া যায়।

সাধারন গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরু-ছাগল ও ঘোড়া পাওয়া যায় এখানে। এখানে গরুর প্রজনন উচ্চ এবং চীনের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দুগ্ধ এখানে উতপাদিত হয়।

হেইলংজিয়াং খনিজসম্পদে পূর্ণ যেমন সোনা, কয়লা, গ্রাফাইট এবং অন্যান্য খনিজ রয়েছে। ডাকিং এ তেল খনি রয়েছে যেটা চীনের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী। হেইলংজিয়াং এ গুরুত্বপূর্ণ উইন্ডমিলসমূহ রয়েছে যেটা বিদ্যুত উতপাদনে ব্যবহৃত হয়।

হেইলংজিয়াং এ চীনের অধিকাংশ উত্তরাঞ্চল অবস্থিত। এই অঞ্চল চীনা শিল্পের মূল ভিত্তি। এখানকার শিল্পগুলো হচ্ছে কাঠ, কয়লা, খাদ্য, যন্ত্রপাতি এবং পেট্রোলিয়াম। হেইলংজিয়াং হচ্ছে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে বানিজ্য তোরণ।

এ বছরে হেইলংজিয়াং এর শহুরে এলাকায় মাথাপিছু উপার্জন ছিল ১০,২৪৫ ইউয়ান। এটা আগের বছরের তুলনায় ১১.৬% বেশী। ২০০৭ সনে হেইলংজিয়াং এর সর্বনিম্ন জিডিপি ছিল ৭০৮ বিলিয়ন ইউয়ান। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১২.১% এবং মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১৮,৫০০ ইউয়ান।

হেইলংজিয়াং ভ্রমণ স্থানসমূহ

হেইলংজিয়াং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর হচ্ছে হারবিন। এই প্রাদেশিক রাজধানীতে প্রচুর মিশ্র সংস্কৃতি দেখতে পাওয়া যায়। রাশিয়া ও চীনা ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির বাইরে এখানে দেখা যাবে আধুনিক সংস্কৃতির মিশ্রণ। এখানে সারা হারবিন জুড়ে প্রচুর খ্রিস্টীয় চার্চ রয়েছে যেমন, ক্যাথোলিক, রাশিয়ান অর্থোডক্স এবং প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ।

প্রাকৃতিক বরফ অনেক আনন্দ ও বুদ্ধির খোরাক যোগায় হেইলংজিয়াং এ। হেইলংজিয়াং বরফের ভাষ্কর্য প্রদর্শনের জন্য বিখ্যাত। ২০০০ এরও বেশি বরফ ভাষ্কর্য এখানে প্রদর্শিত হয় ২০০৭ সালের ৮ম ওয়ার্ল্ড বরফ ও তুষার প্রতিযোগিতায়।

১৭১৯ ও ১৭২১ সনের আগ্নেয়গিরির অগ্নুতপাতের কারণে আমুর উপত্যকায় সিরিজ ৫টি হ্রদ সৃষ্টি হয়। এই হ্রদগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। দ্বিতীয় লেকের ভূতাত্বিক দৃশ্য খুবই জমকালো এবং বিখ্যাত। জিংবো হ্রদ মুদান নদীর অংশ যেটা অগ্নুতপাতের সময়ে সুন্দর আকৃতি তৈরী করেছে। এটা দেখতে পাওয়া যাবে নিংগান কাউন্টিতে এবং এখানে ডিয়াওশুইলুউ নামে সুদৃশ্য জলপ্রপাত রয়েছে।

enEnglish esEspañol zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

Continue Reading

চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস বেইজিং, চীনের জনগণের প্রজাতন্ত্র

Avatar

Published

on

beijing1000x600

বেইজিং চীনের রাজধানী শহর এবং এটি চীনের চারটি মহানগরী শহরের মধ্যে অন্যতম। বেইজিং চীনের প্রাচীন মহান রাজধানীগুলির একটি এবং ইংরেজীতে একে পেকিং বলে উল্লেখ করা হয়। বেইজিং এর উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ সীমান্ত সেই সাথে পূর্ব সীমানার কিছু অংশ হেবেই প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত। এর দক্ষিণ-পূর্ব সীমানার কিছু অংশ তিয়ানজিন মহানগরীর সঙ্গেও যুক্ত।

সাংহাই এর পরে বেইজিং হচ্ছে চীনের বৃহত্তম শহর এবং এটি একটি সুন্দর রেলওয়ে, মোটরওয়ে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থল। বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষাদীক্ষার রাজধানী হিসেবে খ্যাত। অপরপক্ষে, সাংহাই এবং হংকং চীনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বেইজিং ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের আয়োজক শহর।

বেইজিং এর ইতিহাস

চীনের গৃৃহযুদ্ধের সময় কম্যুনিস্ট ফোর্স বেইজিং প্রবেশ করে ১৯৪৯ সালের ৩১ জানুয়ারী কোন প্রকার বাধা ছাড়াই। ১ তারিখ অক্টোবর, ১৯৪৯ সনে মাও জেদং এর পৃষ্ঠপোষকতায় চীনা কম্যুনিস্ট পার্টি চীনের অভ্যুদয় ঘোষণা করে এবং পুনরায় বেইজিং নামের পুনঃপ্রবর্তন করে।

২০০১ সালের জুলাই মাসের ১৩ তারিখে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ২০০৮ সালের সামার অলিম্পিক গেমস এর ভেন্যু হিসাবে বেইজিংকে আয়োজক শহর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বেইজিং এর ভৌগলিক অবস্থান

চীনা সমতলভূমির উত্তর প্রান্তে যে কেউ বেইজিং শহরকে চিহ্নিত করতে পারে। শহরটি উত্তর, উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিমের পর্বতমালা দ্বারা সুরক্ষিত।

বেইজিং এর শহুরে অংশটি শহরের দক্ষিণের কেন্দ্রীয় অংশে রয়েছে। শহুরে খন্ডাংশ ছোট কিন্ত্ত দ্রুত বর্ধনশীল মহানগরীর অবকাঠামোর সাথে যুক্ত। চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাস তিয়ান আনমেন অংশের ঝংনানহাই অঞ্চলে। চ্যাংগান এভেন্যু মধ্য বেইজিং এর মধ্য দিয়ে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে চলে গিয়েছে এবং এটি বেইজিংয়ের প্রধান চলাচল সড়ক।

বেইজিং এর আবহাওয়া

শহরটিতে আদ্রতা এবং মহাদেশীয় জলবায়ু ক্রীয়াশীল থাকার কারণে অধিকাংশ এলাকা মৌসুমী বায়ু প্রভাবিত। পূর্ব এশীয় মৌসুমী বায়ু প্রবাহের ফলে গ্রীষ্মকালে গরম এবং গুমোট আবহাওয়া থাকে আবার শীতকালে ঠান্ডা, শুকনো এবং ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজমান থাকে। জানুয়ারী মাসে তাপমাত্রা থাকে কমবেশী ১ ডিগ্রি সে. যখন জুলাই মাসে গড়পড়তা ৩০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা বজায় থাকে।

বেইজিংএর অর্থনীতি

২০০৭ সালে বেইজিং এর সর্বনিম্ন জিডিপি ছিল ৯০০.৬২ বিলিয়ন আরএমবি, প্রবৃদ্ধির হার ১২.৩% । মাথাপিছু জিডিপি ছিল ৫৬,০৪৪ আরএমবি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রিয়াল এস্টেট ও অটোমোবাইল সেক্টরে লক্ষণীয় উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

বেইজিংএর দর্শনীয় জায়গাগুলি

নিষিদ্ধ শহরটি বেইজিং এর ঐতিহাসিক কেন্দ্ররে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এটা ছিল মিং রাজবংশের সম্রাটদের আবাস এবং কিং রাজবংশের শাসকদেরও। নিষিদ্ধ শহরে রাজকীয় যাদুঘরও রয়েছে যেখানে চীনা শিল্পের রাজকীয় সংগ্রহের প্রদর্শনী রয়েছে।

বেইজিং এ স্বর্গের মন্দির খুবই প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান। এটা দক্ষিণ-পূর্ব বেইজিং এ অবস্থিত এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এর অন্তর্ভূক্ত।

মিং রাজবংশের তেরটি সমাধিসৌধ বেইজিং এর উপকন্ঠে অবস্থিত। এগুলো হচ্ছে তের জন মিং রাজার সমাধিস্থান এবং ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের জন্যও নির্ধারিত।

বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারপোর্ট

বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুনেই এর কাছাকাছি। এটি চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর। চীনা বিমান চলাচলের প্রধান কেন্দ্র এই বিমানবন্দরটি এবং প্রায় সব আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই বিমানবন্দর থেকে ওঠানামা করে। বেইজিং শহরের সাথে এই বিমানবন্দর এয়ারপোর্ট এক্রপ্রেস ওয়ের মাধ্যমে যুক্ত।

enEnglish esEspañol zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

Continue Reading

Trending Now

Free counters!