Connect with us

মাল্যাশিয়া

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস আলোর সেতার ভ্রমণ গাইড

Avatar

Published

on

alorsetar1000x600

কেদাহ এর রাজধানী আলোর সেতার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মালয়েশিয়ার প্রাচীনতম সালতানাতের অন্যতম। মালয় ভাষায় আলোর সেতার এর অর্থ হলো ছোট ঢেউ। আলোর সেতার আধুনিক অবকাঠামো এবং শপিং কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ একটি ব্যস্ত শহর এবং বর্তমানে মালয়েশিয়ার চাল ও রাবার ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র। মালয়েশিয়ার পরিবেশবান্ধব শহরগুলির অন্যতম এই শহর এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য গর্বিত।

আলোর সেতার আসার উপায়

স্থলপথে

মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত পথ ধরে সিঙ্গাপুরের দিকে যাওয়া উত্তর-দক্ষিণ এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পর্যটকদের জন্য কেদাহ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ রয়েছে যদি তারা কার ভাড়া করেন, ট্যাক্সি ক্যাব ডাকেন অথবা মালয় উপদ্বীপের বাস কোম্পানীর কোন বাসে ওঠেন। আলোর সেতারগামী বাসগুলি অন্যান্য শহরগামী বাসের মত শীতাতপনিয়ন্ত্রণহীন নয়। আপনি বাসে যাওয়ার জন্য যদি মনস্থ করেন তবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহরের বাস টার্মিনাল থেকে টিকিট নিয়ে নিতে পারেন। আলোর সেতার যাওয়ার জন্য আপনার জন্য ট্রেন ভ্রমণেরও ব্যবস্থা রয়েছে কেরেটাপি তানাহ মেলাইয়ু বরহাদ (কেটিএমবি) রেল কোম্পানীর সৌজন্যে যা আপনাকে কেন্দ্রীয় ব্যবসায় কেন্দ্রে নিয়ে যাবে। ট্রেনের টিকেট আপনি সরাসরি অথবা অনলাইনে ক্রয় করতে পারেন।

বিমানপথে

সুলতান আব্দুল হালিম বিমানবন্দর আধুনিকতম একটি বিমানবন্দর যা আলোর সেতার শহর থেকে ১৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত। এখন পর্যন্ত এই বিমান বন্দর শুধুমাত্র আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস এবং এয়ার এশিয়ার সৌজন্যে।

সমুদ্র পথে

কুয়ালা কেদাহ জেটি থেকে যাত্রীবাহী ফেরীর ব্যবস্থা রয়েছে এবং লাঙ্গকাউয়ি পর্যন্ত নিয়মিত ফেরী চলাচল করে। যাহোক, জেটিটি আলোর সেতার থেকে ২৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত সুতরাং শহরে যেতে আপনাকে বাস অথবা ট্যাক্সি ধরতে হবে।

আলোর সেতারে থাকবার ব্যবস্থা

আমার গত আলোর সেতার ভ্রমণের সময় আমি আলোর সেতার সেরি মালয়েশিয়া হোটেলে একটি হোটেল রুম ভাড়া করেছিলাম।

আলোর সেতারের প্রধান আকর্ষণসমূহ

মিনারা আলোর সেতার
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশিষ্ট চিহ্নবাহী মিনারা আলোর সেতার শহরের এবং সারা কেদাহ রাজ্যের দ্রুত উন্নতির প্রতীক সেইসাথে এটা টেলিযোগাযোগ টাওয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। দর্শনার্থীগন এই টাওয়ারে চড়তে পারেন এবং সমগ্র আলোর সেতার শহরের শ¦সরোধকরা দৃশ্য দেখতে পারেন।

জহির মসজিদ

জহির মসজিদ কেদাহ এর রাষ্ট্রীয় মসজিদ এবং এটা শহরের একটি স্থাপত্য কীর্তি। মুরিশ স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এই মসজিদ মালয়েশিয়ার সর্ববৃহত ও প্রধানতম মসজিদ এবং এখানে কেদাহ এর বার্ষিক কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আপনি যদি এই মসজিদ ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আপনাকে শহরের ধর্মীয় বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং সেসাথে আপনাকে নির্ধারিত পোষাক পরতে হবে। বালাই নোবাত হলো কেদাহ এর রাজকীয় অর্কেস্ট্রা ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রের উতসভুমি। এই বাদ্যযন্ত্রগুলি এতই বিশিষ্ট ও ভাবগম্ভীর যে এগুলি শুধু রাজকীয় অনুষ্ঠানাদি যেমন কোন কোম্পানী উদ্বোধন, বিবাহ ও শেষকৃত্য ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বাজানো হয়।

বালাই বেসার

এটা কেদাহ এর ‘গ্রেট হল’ নামে পরিচিত, এর কাঠামো কেদাহ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিন স্থায়ী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পরিচয় বহন করে।

রাজকীয় যাদুঘর

এক সময়ের কেদাহ সুলতানদের রাজকীয় প্রাসাদ এই রাজকীয় যাদুঘর এখন কেদাহ সালতানাতের বিভিন্ন নৃতাত্বিক সম্পদের সংরক্ষণাগার সেসাথে রাজকীয় শিল্প গ্যালারীতে পরিণত হয়েছে যেখানে পেইন্টিংস, আলোকচিত্র, প্রাচীন নিদর্শন এবং সালতানাতের ঐতিহ্যবাহী ললিতকলা ও শিল্পের নিদর্শন রয়েছে। অধিকন্ত্ত, এখানে সালতানাতে থাই প্রভাবের বিভিন্ন সংগ্রহ রয়েছে যার মধ্যে মূলতঃ বুজং ভ্যালীর প্রাচীন হিন্দু-বৌদ্ধ সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন রয়েছে।

মহাথিরের জন্বস্থান

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মহাথির মোহাম্মদ যিনি ১৯২৫ সনের ১০ জুলাই জন্বগ্রহন করেন তাঁর জন্বস্থান হলো কামপুং সেবেরাং পেরাকের একটি বাড়ী।

enEnglish deDeutsch zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

মাল্যাশিয়া

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস পুত্রজায়া ভ্রমণ গাইড

Avatar

Published

on

putrajaya1000x600

মালয়েশিয়ার ফেডারেল সরকারের রাজধানী হিসেবে কুয়ালা লামপুরের জায়গায় পুত্রজায়াকে বেছে নেয়া হয় দেশের অর্থনীতি দ্রুত চাঙ্গা হয়ে ওঠার পর। কুয়ালা লামপুরের ঠিক বাইরেই পুত্রজায়া অবস্থিত এবং এর নামকরণ হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুঙ্কু আবদুর রহমান পুত্রা এর নামানুসারে। তারা পুত্রার সাথে জায়া যোগ করেছেন যার অর্থ হলো উতকৃষ্টতা।

পুত্রজায়াকে এখন প্রাথমিকভাবে ‘মালয়েশিয়ার প্রথম ইন্টেলিজেন্ট গার্ডেন সিটি’ নামে অভিহিত করা হয় এর স্থাপত্য শিল্পের কারণে। নির্মাতারা পুত্রজায়াকে এমন একটা শহর হিসেবে কল্পনায় এঁকেছেন যেখানে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বিলাসী বাগিচা থাকবে।

পুত্রজায়া আসার উপায়

তুলনামূলকভাবে নতুন শহর হওয়ায় পুত্রজায়ায় আসার একটাই উপায় আছে তা হলো কেএলআইএ ট্রানজিট যার পুত্রজায়ায় স্টপওভার রয়েছে। কেএলআইএ প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ছাড়ে এবং আপনার খরচ হবে ৯.৫০ রিঙ্গিত ২০ মিনিটের একমুখী ভ্রমণের জন্য। অন্য একটা উপায় হলো ট্যাক্সিতে আসা। এর জন্য আপনাকে গুনতে হবে ৫০ রিঙ্গিত একমুখী ভ্রমণের জন্য একইভাবে।

পুত্রজায়ার আকর্ষণসমূহ

পারদানা পুত্রা
এই বিশেষ বিল্ডিং কমপ্লেক্স শহরের প্রধান পাহাড়ে অবস্থিত যা মালয়েশিয়ান সরকারের নির্বাহী বাহু ও মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। যদি আপনি পুত্রজায়া ভ্রমণের ইচ্ছা করেন তাহলে এটা হবে আপনার সবচেয়ে উতকৃষ্ট ভ্রমণস্থান বিশেষ করে অন্যান্য শহরের ভ্রমণ আকর্ষণ কেমন হবে তা এই শহর ভ্রমণেই বোঝা যাবে।

পুত্রা মসজিদ

মসজিদ পুত্রা হিসেবেও পরিচিত শহরের এই প্রধান মসজিদের নির্মান কাজ ১৯৯৯ সালে শেষ হয়। এটা পারদানা পুত্রা এবং পুত্রাজায়া হ্রদের পাশেই অবস্থিত।

পুত্রজায়া স্বাধীনতা স্কোয়ার

এই শহর স্কোয়ার পারদানা পুত্রার পরেই অবস্থিত। বিভিন্ন উতসব ও প্যারেড এখানে প্রদর্শিত হয় পাবলিক হলিডে’ র সময়ে।

পুত্রা সেতু

শহরের প্রাথমিক ধমনী পুত্রা সেতু ইরানের খাজু সেতুর অনুকরণে তৈরী করা হয়েছে। ৪৩৫ মিটার দীর্ঘ পুত্রা ব্রীজ সরকারের সাথে মিশ্র উন্নত শহর উপকন্ঠকে যুক্ত করেছে সেইসাথে যুক্ত করেছে পুত্রা স্কোয়ার ও শহরের প্রধান সড়ককে। তিনটি স্তরে এই সেতু নির্মিত হয়েছে, একটিতে মনোরেল, একটিতে যানবাহন ও অন্যটিতে পথচারী চলাচল।

মিলেনিয়াম মনুমেন্ট

এটা এই শহরের নিজস্ব নির্মান ঠিক ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আদলে। পুত্রজায়ার জাতীয় মনুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত এই মনুমেন্ট একটা ধাতুনির্মিত চতুষ্কোণ স্মৃতিস্তম্ভ, ৬৮ মিটার লম্বা এবং উপশহর-২ এর ২৫ হেক্টর পার্কের মধ্যে অবস্থিত। ধাতব প্লেটে চিত্রাঙ্কন করা শ্রীমন্ডিত এই স্মৃতিস্তম্ভ মালয়েশিয়ার জাতীয় ইতিহাস ও মূহুর্তের ছবি শোভিত।

পুত্রজায়া হ্রদ

৬৫০ হেক্টরের এই মনুষ্যনির্মিত হ্রদ নগরীকে ঠান্ডা রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। এটা এখন বিভিন্ন জলক্রিড়ার প্রধান স্পটে পরিণত হয়েছে যেমন এফ১ পাওয়ার বোট চ্যাম্পিয়নশীপ এবং এশিয়ান ডিঙি নৌকা বাইচ চ্যাম্পিয়ানশীপ প্রতিযোগিতা।

আলামান্ডা পুত্রাজায়া

কোন শহরই সম্পূর্ণ নয় বিশ¦ মানের শপিং মল না থাকলে। আলামান্ডা পুত্রাজায়া শপিং কমপ্লেক্স শহরে নির্মিত প্রথম শপিং কমপ্লেক্স যেখানে আছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, বৌল খেলার পথ, মুভি থিয়েটার এবং একখানি ফুড কোর্ট। এখানে একটা ট্রাভেলেটর রয়েছে যার সাহায্যে পার্কিং এরিয়া থেকে খুচরা দোকানগুলিতে সরাসরি যাওয়া যায়।

হিবিস্কাস গার্ডেন

হিবিস্কাস গার্ডেন দেশের জাতীয় ফুলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এখানে আপনি ২,০০০ বিভিন্ন জাতের হিবিস্কাস পুষ্পগাছ পাবেন যেখানে বিদগ্ধ প্রকৃতি প্রেমীদের নগরীর কলকোলাহল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, পুত্রজায়ায় খুব বেশী পাবলিক যানবাহন ব্যবস্থা নেই যা এখানে ওখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক যদি না আপনি একটি কার ভাড়া করে থাকেন আপনার ভ্রমণের সময়। সুতরাং যদি আপনি পুত্রজায়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে উচিত হবে কেএল এর সাথে যোগাযোগ করা যারা টুর প্যাকেজ এর ব্যবস্থা করে। নিজে নিজে ভ্রমণ করার চেয়ে এটা উত্তম ব্যবস্থা।

enEnglish deDeutsch zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

Continue Reading

মাল্যাশিয়া

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস পেনাং ভ্রমণ গাইড

Avatar

Published

on

প্রাচ্যের মুক্তা’ হিসেবে পরিচিত পেনাং এশিয়ার বিখ্যাত দ্বীপ গন্তব্যের অন্যতম যেখানে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জাকজমকপূর্ণ ঐতিহ্য, মহান আতিথেয়তা এবং প্রাচুর্য। এটা সব পর্যটকদের জন্য একটা ওয়ান স্টপ গন্তব্য যেখানে রয়েছে প্রচুর রেস্তোরাঁ, রাস্তার পাশের ক্যাফে, ডিস্কোথেক, নিশি মার্কেট, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরস এবং অকৃত্রিম সমুদ্র সৈকত।

স্থানীয়ভাবে পুলাউ পিনাং নামে পরিচিত পেনাং একটা কচ্ছপাকৃতির দ্বীপ দ্বারা গঠিত যার আয়তন ২৮৫ বর্গ কি.মি. এবং সেবেরাং প্রাই লম্ব ভূমির প্রস্থ ৪৮ কি.মি.।

পেনাং যাওয়ার উপায়

স্থলপথে
পেনাং দ্বীপে যাওয়া খুবই সহজ। ১৯৮৫ সালে পেনাং মালয় উপদ্বীপের মূলভূমির সাথে পেনাং ব্রীজ দ্বারা যুক্ত হয় যা প্রথিবীর অন্যতম বৃহত একটি সেতু। রেন্ট এ কার, মোটরবাইক অথবা ট্যাক্সি করে সহজেই এখানে আসা সম্ভব। আপনি যদি ট্যাক্সিতে যেতে চান তবে অবশ্যই রেট জেনে তারপর ভাড়া করবেন নতুবা আপনাকে পেনাং যেতে অতিরিক্ত চার্জ গুনতে হতে পারে। বাজেটের সমস্যা থাকলে বাসে করেও কম ভাড়ায় পেনাং যাওয়া সম্ভব। মালয়েশিয়ান রেলওয়ের যেসব ট্রেন সিঙ্গাপুর ও কুয়ালা লামপুরের মধ্যে চলাচল করে পেনাং এ সেগুলির স্টপেজ রয়েছে।

নৌপথে

পেনাং এ যাওয়ার জন্য বেশ কিছু ফেরী চলাচল করে নিয়মিত। ফেরীতে মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগে যা আপনাকে পেনাং এর মনোলোভা সৌন্দর্য উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

আকাশ পথে

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য বিমান সংস্থা নিয়মিত পেনাং এ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। কিছু এয়ারলাইন্স ছুটির সময়ে আলাদা প্যাকেজ প্রদান করে থাকে, এবিষয়ে আপনার ট্রাভেল এজেন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন আগেভাগে।

পেনাং এ হোটেল ব্যবস্থা

পেনাং এ শত শত হোটেল আর পর্যটক নিবাস রয়েছে। পেনাং এর সবচেয়ে ভাল কিছু হোটেল আর পর্যটক নিবাস হলো দি কপথর্ণ অর্কিড পেনাং, ফেরিঙ্গি মুতিয়ারা এপার্টমেন্ট, হলিডে ইন পেনাং, বেইয়ান লেপাস এর নিকট হোটেল ইকুয়াটোরিয়াল পেনাং, লোন পাইন হোটেল পেনাং, ইডেন ফেয়ারওয়ে কনডোমোনিয়াম পেনাং, পারসিয়ান গারনি হোটেল পেনাং, সেরি মালয়েশিয়া হোটেল, শাংগ্রী-লা’স রাসা সাইয়াঙ রিজোর্ট অথবা শাংগ্রী-লা’স গোল্ডেন স্যান্ডস রিজোর্ট পেনাং।

প্রধান আকর্ষণ সমূহ

ওয়াত চায়ামাংকালারাম
এটা একটা বৌদ্ধ মন্দির যা ৫ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে। চায়ামাংকালারাম পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম হেলানো বুদ্ধ মুর্তি। এখানে বুদ্ধ মুর্তির পিছনে প্রচুর কুলুঙ্গি রয়েছে যার মধ্যে পরিবারের সদস্য ও আত্বীয়-স্বজনের দেহভস্মসহ প্রচুর ভস্মাধার রয়েছে। ওয়াত চায়ামাংকালারাম এ মালয়েশিয়ার সর্ববৃহত প্যাগোডা রয়েছে যা নয় তলা উঁচু এবং মাপে ১৬৫ ফুট। এখানকার সারা কমপ্লেক্স জুড়ে রহস্যময় নাগা সর্প মুর্তি রয়েছে যেগুলি স্বর্গ ও মর্তের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরী করেছে। এখানে অবাধে প্রবেশ করা যায় কিন্ত্ত প্রধান মন্দিরের মধ্যে ছবি তোলা নিষিদ্ধ।

রাষ্ট্রীয় মসজিদ

পেনাং এর রাষ্ট্রীয় মসজিদ গ্রীনলেন উপশহরে ৪.৫ একর জুড়ে বিস্তৃত। এটা মালয়েশিয়ার সবচেয়ে জমকালো মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত। মসজিদে প্রার্থনা হলে একটি ঝাড়বাতি রয়েছে যার মাপ বিশ ফিট বাই ষোল ফিট। মসজিদ ভ্রমণ করতে রাষ্ট্রীয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এখানে পরিদর্শনে আসতে বিশেষ ধরনের পোষাকও পরিধান করতে হয় সুতরাং আসার আগে অবশ্যই পোষাক সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন।

পেনাং রাষ্ট্রীয় যাদুঘর

এই যাদুঘরে চিত্রাংকনের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে যার মধ্যে ক্যাপ্টেন রবার্ট স্মীথের দশটি মূল চিত্রাংকনের আটটিই রয়েছে। এখানে আরও রয়েছে বাবা নিওনিয়ার চীনা মাটির বাসন-কোসন, জুয়েলারী, পোষাক এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মূল্যবান সামগ্রী যেগুলির সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অতুলনীয়।

চিওঙ ফাট ত্‍জী ম্যানসন

এই ম্যানসন অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের স্মৃতিবাহী এবং চীনের বাইরে তিনটি টিকে যাওয়া ভবনের অন্যতম। এর প্রাচীন টাইল করা ছাদ, নুড়ি বিছানো প্রাঙ্গণ, কপিল ইটের প্রাচীর এবং স্টীলের বাঁকানো সিঁড়ি, চীনা মাটির দুর্লভ সংগ্রহ, ভাষ্কর্য, খোদাই শিল্প, চিত্রিত কাপড়, নকশা করা কাপড়, ল্যাকার, ব্রোঞ্জের তৈরী সামগ্রী ও অন্যান্য অ্যান্টিক সামগ্রী যে কাউকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

ফোর্ট কর্ণওয়ালিস এবং রাজা এডওয়ার্ড সার্কাস ক্লক টাওয়ার

৬০ ফুট দীর্ঘ ক্লক টাওয়ারের জন্য বিখ্যাত এই দুর্গের প্রবেশ পথে নির্মিত এই টাওয়ার ১৮৯৭ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার হীরকজয়ন্তীতে তাঁকে উপহার প্রদান করা হয়। এর প্রতি ফুট রানীর প্রতি বছর শাসনকালের স্মরণে করা হয়। এই কাঠামো মূলতঃ কাঠের তৈরী এবং কামান দ্বারা বেষ্টিত যেগুলি বৃটিশরা অধিকার করেছিল। প্রধান কামানটির নাম সেরি র্যামবো যা ১৬১৩ সালের। স্থানীয় বিশ¦াস মতে, নারীগন যদি বিশেষ প্রার্থনা করেন ও এই কামানের চোঙায় ফুল দেন তাহলে সন্তান ধারনে সক্ষম হবেন।

পেনাং পাহাড়

পেনাং পাহাড় স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় মিলনস্থান । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৩০ মিটার উচ্চ এই পাহাড়ে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত নেমে আসে এবং এখান থেকে জর্জ টাউনের সুন্দর চলমান দৃশ্য ও মালয় উপদ্বীপের উপকুলভূমির দৃশ্য দেখা যায়।

বন চিত্তবিনোদন পার্ক

পেনাঙ এর উত্তর-পূর্ব অংশে ১০০ হেক্টর জমি নিয়ে এই সুন্দর পার্কটি অবস্থিত। এখানে কয়েকটি স্বচ্ছ পানির পুল, ফুটপাথ, বিশ্রাম ঘর, শিশুদের খেলার মাঠ এবং বন যাদুঘর আছে যেখানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় কাষ্ঠ সামগ্রী এবং সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রজাতির পোকা রয়েছে।

উদ্ভিদ উদ্যান

এই ধরনের উদ্ভিদ উদ্যান মালয়েশিয়ায় মাত্র একটিই রয়েছে। এর আয়তন ৩০ হেক্টর এবং এটা জঙ্গলপূর্ণ পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। এখানে বিশাল ক্রান্তীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংগ্রহ রয়েছে। এখানে পেনাং ব্রীজের রেপ্লিকা, একটা পাঠাগার এবং রয়েছে প্রচুর রেসাস বানর।

enEnglish deDeutsch zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

Continue Reading

মাল্যাশিয়া

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস জহর বাহরু ভ্রমণ গাইড

Avatar

Published

on

defaultimage1000x600

জহর বাহরু হলো দেশের দক্ষিণে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এই শহর মালয়েশিয়ার অন্যান্য বৈশিষ্টমন্ডিত শহর ও রাজ্যের সাথে তুলনীয় না হলেও জহর বাহরু দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বানিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। জহর বাহরু তার পুরনো ঐতিহ্য ও জীবন প্রণালী এখনও ধরে রেখেছে যা একে বিশেষ চিত্র ও শান্তিপূর্ণ বৈশিষ্ট দান করেছে।

জহর বাহরু আসার উপায়

স্থলপথে
জহর বাহরু যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০% ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া কিছু এক্সপ্রেস বাস রয়েছে যেগুলির ভাড়া অনেক সাশ্রয়ী। মালয়েশিয়ান রেলওয়ের জহর বাহরুর মধ্য দিয়ে ট্রেন সার্ভিস রয়েছে।

জলপথ

সিঙ্গাপুরবাসীদের কাছে বর্তমানে ফেরী সার্ভিস পছন্দনীয় হয়ে উঠেছে জহর বাহরু ও মালয়েশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে। প্রতিদিন এই ফেরী সার্ভিস পরিচালিত হয় সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত চাঙ্গি ও জহর বাহরুর তানজুং বেলাংকর বন্দরের মধ্যে।

বিমানপথ

জহর বাহরুরর সেনাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধান বিমান সংস্থাগুলির আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

জহর বাহরুর হোটেলে আবাসন ব্যবস্থা

জহর বাহরুতে সবরকম বাজেটের হোটেল ব্যবস্থা রয়েছে। আপনার যদি ভাল বাজেট থাকে তাহলে ক্রাউন প্লাজা জহর বাহরু হোটেল অথবা পুতেরী প্যান প্যাসিফিক জহর বাহরু হোটেলে আবাসন সুবিধা নিতে পারেন। আর যদি সীমিত বাজেট হয় তাহলে লারকিন জেলায় অবস্থিত সেরী মালয়েশিয়া হোটেল জহর বাহরুতে রুম বুক করতে পারেন।

জহর বাহরুর প্রধান আকর্ষণসমূহ

এনডাও রমপিন রাষ্ট্রীয় পার্ক
জহর ও পাহাঙ সীমান্তে অবস্থিত এনডাও-রমপিন পার্ক মালয়েশিয়ার দুইটি বৃহত্তম পার্কের মধ্যে অন্যতম যার আয়তন প্রায় ৮০,০০০ হেক্টর। এই পার্ক বহুবিচিত্র উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের আবাস সেইসাথে রয়েছে এনডাও ও রমপিন নদীর মধ্যে জলবিভাজিকা । প্রকৃতি প্রেমীরা এখানে বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন যেমন ক্যাম্পিং, গ্রাম্যপথে হাঁটা, ডিঙিতে চড়া, গুহা দেখা, পাহাড়ে ওঠা এবং পাখি দেখা। পার্কের মধ্যে একশ পঞ্চাশ মিলিয়ন বছরের পুরনো ক্রান্তীয় বনে একদম দেশীয় কিছু দুষ্প্রাপ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো সুমাত্রার গন্ডার, পত্রবানর, হাতি, লম্বা লেজওয়ালা তোতা, দীর্ঘ সাদা হাতওয়ালা বানর এবং বাঘ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রক্ষাকল্পে, কেউ এখানে ভ্রমণ করতে চাইলে প্রথমে কুয়ালা রমপিন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও জহর জাতীয় পার্ক করপোরেশন থেকে বিশেষ পাস নিতে হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস এই পার্ক বন্ধ থাকে সুতরাং এই মাসগুলিতে এই পার্কে ভ্রমণ করা যায় না।

স্টেট সেক্রেটারিয়েট ভবন

ডেপুটি হিলে (বুকিত টিমবালান) অবস্থিত এই ভবন ১৯৪০ সালে নির্মিত হয় এবং সেক্রেটারিয়েট এবং সরকারী অন্যান্য বিভাগ এখানে রয়েছে। গ্রান্ড হলে সারাসিন নকশা ও মোজাইক চিত্র সারা জহরে এই ভবনকে বিশেষ আকর্ষণ দান করেছে।

রাজকীয় আবু বকর গ্রান্ড প্রাসাদ

এই বিশাল প্রাসাদ ৫৩.৮ হেক্টর জুড়ে ছড়ানো সেসাথে রয়েছে সুন্দর ঘাসছাটা লন। এই প্রাসাদ নিও-ক্লাসিক যুগের স্থাপত্য-শৈলী চিত্রিত। এখানে অনেক জহর রাজকীয় পরিবারের নৃতাত্বিক নিদর্শন রয়েছে যেগুলি সুলতান আবু বকর ও তাঁর পুত্র এবং সুলতান ইব্রাহিম তাদের ভ্রমনের সময় সংগ্রহ করেছেন। একটি জাপানী উদ্যান ও একটি জাপানী চা-বাগানের রেপ্লিকা রয়েছে প্রাসাদের কাছে, যেটা হলো জহরের সুলতানের প্রতি জাপানের ক্রাউন প্রিন্সের পক্ষ থেকে একটা উপহার ।

enEnglish deDeutsch zh-hans简体中文 viTiếng Việt arالعربية

Continue Reading

Trending Now

Free counters!