Connect with us

সৌদি আরব

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস সৌদি আরবের রাজ্য

Avatar

Published

on

defaultimage1000x600

অবস্থান 
আরব উপদ্বীপের চার-পঞ্চমাংশ জুড়ে অবস্থান করা সৌদি আরব মধ্য প্রাচ্যের বৃহত্তম রাষ্ট্র। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় সৌদি আরব তিনটি মহাদেশ এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার সন্ধিস্থানে অবস্থান করছে। পশ্চিমে এর সীমান্ত লোহিত সাগর আর পূর্বে আরব উপসাগর দ্বারা চিহ্নিত।

দক্ষিণ সীমান্তে আছে ইয়েমেন এবং ওমান সালতানাত। পূর্বে আরব আমিরাত, কাতার এবং দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। উত্তর সীমান্তে কুয়েত, ইরাক আর জর্ডান রয়েছে। দেশের মোট আয়তন ২,৩৩১,০০০ বর্গ কি.মি. বা ৯০০,০০০ বর্গমাইল।

প্রাকৃতিক অবস্থা 
দেশটির প্রকৃতি বৈচিত্রময়- সুপরিচিত মরুভূমি ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে আছে সবুজ পর্বতময় এলাকা। অবয়ব মরুময় হলেও মরুতেও যথেষ্ট প্রাণ রয়েছে বিশেষ করে মরুতে শীতকালীন বৃষ্টির পরে মরু ক্যামোমিল, বুনোফুল, সূর্যকমল, বুনো শে¦তদুর্বা সাধারনভাবে দৃশ্যমান এবং ছোট প্রাণী যেমন টিকটিকি, সজারু, এবং খরগোশ দেখতে পাওয়া যায়। সৌদি ভূখন্ড বিচিত্র কিন্ত্ত মোটের ওপর এর অবয়ব অনুর্বর ও রুক্ষ সেসাথে আছে লবনাক্ত ভূমি, নুড়িময় সমতল এবং বালিয়াড়ি আবার কিছু হ্রদ ও ঝর্ণাধারাও আছে।

দেশের দক্ষিণে বিখ্যাত শুন্যাঞ্চল রয়েছে(আরবীতে রাব আল খালি) যা প্রথিবীর বৃহত্তম একটানা বালুকাময় মরুভূমি। এটা আবার উত্তরের অন্য একটি বালুকাময় মরুভূমি নাফুদ এর সাথে যুক্ত। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম পর্বতময়, কোন কোন পর্বত ৯,০০০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন এবং এখানে বৃষ্টিপাতও হয়।

ভাষা 
অফিসিয়াল ভাষা আরবী হলেও সৌদিতে ইংরেজীও চালু রয়েছে ব্যাপকভাবে। হোটেল কর্মচারীগণ জার্মান এবং ফ্রেঞ্চ ভাষা বলতে পারে।

সারা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ও পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় আরবী ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও কথিত। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষাগুলির মধ্যেও আরবী অন্যতম। মুসলমানদের পবিত্র ধর্ম পুস্তক কোরআনে উচ্চমার্গের আরবী ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে যা শুধু লেখায় ব্যবহৃত হয়, কথ্যে তেমন প্রচলিত নয়।

মানসম্মত আধুনিক আরবী ভাষা সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও স্থানীয় কথ্য রীতি অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। সাধারণ আরবী কথ্য ভাষা শেখা তেমন কঠিন কিছু নয়।

ক্লিক করুন এখানে সৌদি আরবে প্রচলিত কিছু আরবী প্রবাদবাক্যের জন্য।

স্থানীয় সময়: জিএমটি প্লাস ৪ ঘন্টা

জলবায়ু 
সৌদি আরব পৃথিবীর শুষ্কতম দেশগুলির অন্যতম যেখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত পাঁচ ইঞ্চির বেশী নয়। ইউরোপ আমেরিকার মতো নির্ধারিত কোন ঋতু নেই। শীতের মাসগুলিতে দক্ষিণমুখী বাতাসের আচরণে ঋতুর তারতম্য বোঝা যায় যখন বৃষ্টি হয় ও আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে যায়। অক্ষাংশ, সাগরের নৈকট্য ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতাও জলবায়ুর উপরে প্রভাব ফেলে। শুন্যাঞ্চলে বিশাল দক্ষিণ-পুর্ব বালুকাময় মরুভূমিতে দশ বছরেও বৃষ্টিপাত লক্ষ করা যায় না।

দক্ষিণের আসির উচ্চভূমিতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৫৫ মি.মি.(১০ ইঞ্চি) ছাড়িয়ে যায়। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত জেদ্দায় সারাবছর গরম ও আদ্রতাপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজমান থাকে। অপরপক্ষে তাইফে ও আভায় অনেক সহনীয় জলবায়ু বিদ্যমান থাকে।

গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত গরম থাকে, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি বা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। শীতকালে যথেষ্ট ঠান্ডা থাকে গড় তাপমাত্রা জেদ্দায় ২৩ ডিগ্রী সে.(৭৪ ফা.) ও রিয়াদে ১৪ ডিগ্রী (৫৮ ফা.)। দেশের মধ্য ও উত্তরাংশে শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের উচ্চভূমিতে তুষার ও বরফ পড়ে । অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে সাধারণতঃ রাত ঠান্ডা ও দিনের বেলায় রৌদ্রকরোজ্জ্বল থাকে।

উপকুল অঞ্চলে এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ফা. পর্যন্ত নেমে যায়। অপরপক্ষে গড় গরমও এখানে বেশী তাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া জীবন-যাপন খুবই অসুবিধাজনক।

ব্যাংকঃ 
সৌদি মুদ্রার একক হলো সৌদি রিয়াল যা ১০০ হালালায় বিভক্ত। ১,৫,১০,৫০,১০০ ও ৫০০ রিয়ালের নোট প্রচলিত। এক রিয়ালের কয়েনও প্রচলিত আছে। বিশেষ উত্তোলন অধিকার(এসডিআর) এর উপর নির্ভর করে রিয়ালকে ডলারে কুওট করা হয়।

এসডিআর ও ডলারের মুদ্রামানের পার্থক্যের কারণে সময় সময় মূল্য সমন্বয় করা হয় যাতে কমবেশী এক ডলার=এসআর ৩.৭৫ থাকে। রিয়ালকে রূপান্তরিত করা ও দেশের বাইরে অর্থ প্রেরণে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই।

সৌদি মুদ্রা অধিকাংশ বিদেশী মুদ্রায় রুপান্তরিত করা যায়। সারাদেশে বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহ রয়েছে অধিকন্ত্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশী মুদ্রার কারবার করে সেসাথে ব্যাংকিং অর্থ স্থানান্তরে কাজ করে।

বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকিং সময়ের সামান্য পার্থক্য আছে । শনিবার থেকে বুধবার: ০৮০০-১২৩০ এবং ১৭০০-১৯০০ বৃহস্পতিবার ০৯০০-১২৩০, মানি চেঞ্জাররা দীর্ঘ সময় অফিস খোলা রাখেন।

মুদ্রা বিনিময় ও স্থানান্তর সহজ। সংবাদপত্রে প্রতিদিন প্রধান প্রধান মুদ্রার বিনিময় হার উদ্ধৃত থাকে।

পোশাক 
সৌদি আরবে ধর্ম আর রীতি অনুযায়ী রক্ষণশীল পোশাক নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই নির্ধারিত। বিদেশীদের কিছুটা স্বাধীনতা দেয়া হয় পোশাকের ক্ষেত্রে কিন্ত্ত তাদের কাছে স্থানীয় রীতিনীতি অনুসরণের প্রত্যাশা করা হয় বিশেষ করে প্রকাশ্য স্থানে। সাধারনভাবে বিদেশী পুরুষদের লম্বা পাজামা ও জামা পরতে হয় দেহের উর্ধাংশের জন্য।

বিদেশী মেয়েদের পরতে হয় ঢিলা ঘাগরা যার ঝুল হাঁটুর নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে হবে। ঘাগরার হাতা কনুই পর্যন্ত লম্বা ও উধ্বাংশে গলরেখা বরাবর হতে হবে। সর্বোত্তম পোশাক নির্দশিকা হলো ‘প্রকাশ না করে ঢেকে রাখ’।

কিশোর বয়সীদেরও প্রকাশ্য স্থানে ভালভাবে পোষাক পরিহিত হতে হবে। জিনস যেন আটোসাটো না হয় এবং লো নেক ও ট্যাংক টপ পরা নিষেধ। খাটো প্যান্ট পরাও নিষেধ।

সৌদি আরবে বসবাসরত অমুসলিম নারীগণ প্রায়ই আবাইয়াহ পরেন স্থানীয় রীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন।

ডাক ব্যবস্থা 
সব চিঠিপত্রে ডাক কোড ব্যবহার করা হয় এখানে। ডাকঘরসমূহে ও অন্যান্য নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে ডাকটিকেট পাওয়া যায়।

টেলিগ্রাফ 
টেলেক্স ও ফ্যাক্স: ২৪ ঘন্টার টেলিগ্রাফ ও টেলেক্স সুবিধা পাওয়া যায় প্রধান ডাকঘর ও হোটেলসমূহে।

ইন্টারনেট 
ইন্টারনেট সার্ভিস সাইবার ক্যাফে ও প্রধান হোটেলগুলিতে পাওয়া যায়।

যানবাহন 
বিমান পথ- প্রধান শহরগুলির মধ্যে দীর্ঘ দুরত্বের কারণে আকাশপথে সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ করা সবচেয়ে সুবিধাজনক ও বাস্তবসম্মত। জাতীয় বিমান সংস্থা সাউদিয়া সমন্বিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসমূহ পরিচালনা করে।

রিয়াদ থেকে জেদ্দাহ যেতে এক ঘন্টার কিছু বেশী সময় এবং রিয়াদ থেকে পূর্ব উপকুলের দাহরান যেতে এক ঘন্টার কিছু কম সময় প্রয়োজন হয়। ২৪টি আভ্যন্তরীন বিমান বন্দর রয়েছে এবং সেসাথে চার্টার্‍ড ফ্লাইটও পাওয়া যায় বেশী দুরের মরুভূমি অঞ্চলগুলিতে যাওয়ার জন্য।

সৌদি আরবে প্রধান তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর রয়েছে: রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর জেদ্দায় কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দাহরানে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর

আভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের পাশাপাশি এই সমস্ত বিমান বন্দর থেকে প্রচুর আন্তর্জাতিক সংস্থার বিমান চলাচল করে। সব প্রধান বিমান বন্দর থেকে ভ্রমণকারীদের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য লিমুজিন সার্ভিস রয়েছে। সৌদি আরবীয় পাবলিক যান চলাচল কোম্পানী (সাপটকো) পাবলিক সার্ভিস বাস পরিচালনা করে থাকে বিমান বন্দর থেকে বিভিন্ন হোটেল ও শহর কেন্দ্র।

রেলঃ প্রথম শ্রেণীর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন সার্ভিস রয়েছে প্রতিদিন রিয়াদ থেকে পূর্ব উপকুলের দাম্মাম পর্যন্ত।

বাসঃ স্যাপ্টকো (সাউদি আরাবিয়ান পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী) অধিকাংশ শহরগুলি ও এমনকি বড় শহরগুলির মধ্যেও বাস সার্ভিস পরিচালনা করে থাকে। বাস ভ্রমণ আরামদায়ক ও ভাড়া সাশ্রয়ী সাধারনতঃ ইউরোপ ও আমেরিকার তুলনায়। প্রত্যেক বাসে শিশু ও নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

ট্যাক্সি: শহরের মধ্যে যান চলাচল হাতের নাগালেই পাওয়া যায়। ট্যাক্সিগুলি সাশ্রয়ী ও সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করে।

কার রেন্টাল
সৌদি আরবের অধিকাংশ শহরেই ভাড়ায় কার পাওয়া যায়। সৌদি নাগরিকদের বৈধ গাড়ী চালনা লাইসেন্স থাকতে হবে। পর্যটকদের বেলায় নিজের দেশের চলতি ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। আমেরিকার মতো ডানহাতে এখানে গাড়ী চালনা করতে হয়।

enEnglish arالعربية

সৌদি আরব

হজ্বের জন্য সাধারন উপদেশ ও পরামর্শ

Avatar

Published

on

defaultimage1000x600

হজ্ব হলো ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ যা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য সারা জীবনে অন্তত একবার ফরজ। উমরাহ পালন হলো হজ্বের অনুরূপ ঐচ্ছিক ক্রিয়া যা বছরের যেকোন সময় পালন করা যায়।

মক্কা ও মদিনার যেকোন হোটেলেই থাকুন না কেন তাদের বিজনেস কার্ড সাথে রাখবেন। যদি নিজেকে হারিয়ে ফেলেন সেক্ষেত্রে তাদেরকে আপনি জানাতে পারবেন যাতে তারা আপনাকে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।

নমনীয় হোন, বিশেষ করে যানবাহনের বেলায়। দেখা গেল আপনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের জন্য অর্থ দিয়েছেন অথচ হজ্জের সময় আপনি পেলেন শীতাতপনিয়ন্ত্রণহীন বাস। যদি সম্ভব হয় হাতের নাগালে পাওয়া যায় এমন যেকোন যানবাহন ব্যবহার করুন। ছোটখাট বিষয়ের চাইতে যথাসময়ে আরকান সমাপন করা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

হজ্বের সময় যানজট মারাত্বক আকার ধারণ করে। সময় সময় যান চলাচল একদম থেমে যায় তখন পদব্রজে বেশী দ্রুত অগ্রসর হওয়া যায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আরাফাত থেকে মুজদালিফা পৌঁছতে সময় লেগেছিল চার ঘন্টা অথচ দূরত্ব মাত্র দশ মাইল।

প্রচুর হাটার জন্য প্রস্ত্ততি রাখুন সেইসাথে কয়েক জোড়া আরামদায়ক স্লিপার সাথে রাখুন। অধিকাংশ আধুনিক জুতা ও স্যান্ডেল ইহরামের সময় ব্যবহারের অনুমতি নাই।

নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভাল সুযোগ রয়েছে। বিশেষতঃ হজ্জের ছয়দিনে মক্কা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার সারা এলাকা একজনের নিকট খুবই বিভ্রান্তিকর। এলাকাগুলি তখন মানব সমুদ্রে পরিণত হয়। সবার পরনে থাকে ইহরামের পোষাক আর সব জায়গায় শুধু তাবু আর তাবু। কিছু হাজ্বী দিক হারিয়ে নিজেদের রাস্তা ভুল করে ফেলেন।

যদি নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, হাজ্বীগণকে সহায়তার জন্য সর্বত্র স্থাপিত ‘হজ্জ সহায়তা বুথ’ আপনাকে হোটেল, তাবু, জমারাত, মসজিদ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

দলভুক্ত লোকদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো কেউ যদি হারিয়ে যান তবে সুপরিচিত কোন নির্ধারিত জায়গায় জড় হওয়ার জন্য পূর্ব থেকেই পূর্ব থেকেই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে রাখবেন।

পূনর্মিলনের জন্য মক্কার হারাম শরীফের বাইরে একটি জায়গা নির্ধারণ করুন (দল থেকে কেউ হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে)। এধরনের লক্ষণীয় একটি জায়গা হতে পারে বাব আব্দুল আজিজ গেট।

মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় মিলনের জন্য একটি করে জায়গা নির্ধারণ করুন। চিহ্নিত জায়গাটি সুপরিচিত ও সহজে যাওয়া যেতে পারে এমন হওয়া উচিত। এসব জায়গায় অনেক মানুষ প্রচুর ভীড়ের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।

মদিনায় মসজিদের বাইরে মিলনের জন্য একটা জায়গা নির্ধারণ করুন। এখানেও একটা চিহ্নকে বেছে নিতে পারেন। হজ্জের সময় বিভিন্ন দরকারী জিনিস খুঁজতে গিয়ে বৃথা সময় নষ্ট যাতে না হয় তার জন্য বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় সেগুলি সাথে নেওয়া উচিত। হজ্জের সময় সব দোকানগুলিতে প্রচুর ভীড় থাকে।

ইসলামী স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত জিনিস কেনাকাটার জন্য হজ্জ পরবর্তী সময়কে বেছে নেয়া উচিত যেসময় মক্কা ও মদিনায় মূল্য কম থাকে।

যদিও চিকিতসা সেবার জন্য ইংরেজী জানা প্রচুর চিকিতসক থাকবে তবুও আপনি নিজেকে ‘ট্রাইয়েজ এসেসমেন্ট’ এর মধ্যে আবিষ্কার করতে পারেন। ট্রাইয়েজ কি? যখন হজ্জের সময় চিকিতসা চাহিদা খুব বেশী থাকে তখন রুগীর লক্ষণ ও চিহ্ন অনুযায়ী চিকিতসা সেবা অগ্রগণ্যতা পায় এবং ডাক্তার নন এমন লোকজন যারা ইংরেজী কম জানেন তারা চিকিতসা সেবায় এগিয়ে আসেন। এসব জটিল ক্ষেত্রে নিজের অবস্থা সম্পর্কে দ্রুত বুঝিয়ে বলাটা জরুরী।

যদি আপনি যুবক ও শক্তিশালী হন তবে আপনার উচিত যারা আপনার থেকে বৃদ্ধ ও দুর্বল তাদেরকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা।

অন্যের প্রতি এমন ব্যবহার করুন যা আপনি অন্যের দ্বারা নিজের, পিতামাতার ও সন্তানদের প্রতি আশা করেন। বিশেষ গুরুত্বসহকারে নবী (সাঃ) রাগান্বিত না হওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছেন তা স্মরণ করুন।

আপনি যদি হারামাইন শরীফের সামনের কাতারে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন তাহলে তা বেশী ভাল।

প্রত্যেক নামাযের আগেভাগেই নামাযের জন্য হাজির হোন যদি আপনি হারাম শরীফের ভিতরে কাবা শরীফের কাছাকাছি জায়গা থেকে নামাজ আদায় করতে চান। অথবা মদিনায় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর ‘রওজা-ই-আকদাস’(সমাধি) এর কাছাকাছি থেকে।

নামাজের পূর্বে হারাম শরীফে প্রবেশ করে একটা জায়গা খুঁজে পেতে এক ঘন্টা সময় লেগে যায়। ‘জুমা’ র দিনে হারাম শরীফে প্রবেশ করতে আরও বেশী সময় লাগে।

হারাম শরীফের দরজা ও প্রবেশ পথে নামায আদায় করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা উচিত নয় এমনকি জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজের আশায়ও নয়।
নামাজের সময় কাছাকাছি আসলে হাজ্বীগণ সামনের সারিতে বসা শুরু করেন। মক্কায় অন্যরা যদিও তাওয়াফরত অবস্থায় থাকেন এমতাবস্থায় হারাম শরীফের সামনের সারিগুলি পূর্ণ হয়ে যেতে থাকে। নামাযের জন্য জায়গা পাওয়া কঠিনতর হয়ে পড়ে। একইভাবে তাওয়াফ করাও কঠিন হয়ে পড়ে যখন মানুষ বসা শুরু করে।

কাবা শরীফের পাশে অথবা কাছাকাছি বসে নামায আদায় করতে গিয়ে কিংবা মাকামে ইব্রাহিম বা কালো পাথরের কাছে দাড়িয়ে কখনও তাওয়াফরতদের বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। এখানে অতিরিক্ত ভীড় অন্যদের দারুন অসুবিধার সৃষ্টি করে।

আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা অতি পবিত্র! হজ্জের সময় সারারাত হারাম শরীফ জীবন্ত হয়ে ওঠে। মানুষ তাওয়াফ ও সাঈ’ সম্পাদন করে থাকেন রাতভর।

হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অন্য হাজীদের ধাক্কা দেওয়া বা ক্ষতি করা উচিত নয়। আল্লাহর সন্ত্তষ্টির জন্য যদি এখানে আপনি এসে থাকেন অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি না করেও আপনি হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এই কালো পাথরকে চুম্বন করার কারণ শুধু একটিই আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) একে চুম্বন করেছিলেন। এটা বেহেশ্‍ত থেকে আসা শুধুই একটি পাথর। এর মধ্যে কোন শক্তি বা রহস্য নেই।

তাওয়াফের পরে মাকামে ইব্রাহীমের নিকট সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কিন্ত্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ তাওয়াফরত থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় বিশেষতঃ সিজদার সময় মারাত্বক জখম হওয়ার আশংকা থাকে। আপনি অন্য হাজ্বীদের অনুরোধ জানাতে পারেন মানুষদের অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য যাতে আপনি নামাজ আদায় করতে পারেন অথবা আপনি কিছু দুরে যেখানে তাওয়াফকারীর সংখ্যা কম সেখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মদিনায় মসজিদে নববী ইশা’র নামাযের কিছু পরে সাধারন মানুষের জন্য বন্ধ হয়ে যায় আবার তাহাজ্জুদ নামাযের আগে খোলা হয়।

মসজিদে নববীর মধ্যে সবুজ ও সাদা গালিচায় ঢাকা রওজাতুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগান রয়েছে। সেখানে ‘উসতুওয়ানা’ অথবা ‘সুতুন’ (স্তম্ভ) রয়েছে, মসজিদে নববীর মধ্যে বিশেষ জায়গাগুলিতে বিশেষ নকশা রয়েছে।

হজ্জ বুক দেখে নিতে ভুল করবেন না। ফরজ, সুন্নাত ও নফল নামাজ আদায়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই আগেভাগে মসজিদে নববীতে আসতে হবে।
মসজিদে নববীর প্রত্যেক জায়গা ও কোণ পবিত্রতা ও আশির্বাদপূর্ণ তেমনি মক্কার হারাম শরীফের প্রত্যেক কোণও আশির্বাদপূর্ণ।

মদিনায় মসজিদে নববীতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত নামাযের স্থান কিবলা থেকে দুরে পূর্বপাশে অবস্থিত।

মহিলা হাজীদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর রওজা মোবারক পরিদর্শণের জন্য বিশেষ সময়ের ব্যবস্থা রয়েছে। মহিলাগন উক্ত সময়ের সুবিধা বুঝে রওজা মোবারকে আসতে পারেন।

হারামাইন শরীফের মধ্যে বক্স, জিনিসপত্রের থলে, কেনাকাটার ব্যাগ এবং পিঠে বহনযোগ্য ব্যাগ বহন করা নিষিদ্ধ। কোন কোন সময় জায়নামাজ কিংবা পানির বোতলও বহন করা নিষেধ। সবচেয়ে ভাল এগুলো মসজিদের মধ্যে বহন না করা।

হজ্জ ও ওমরাহর সময় যদি কোন জিনিস কেউ মদিনা, মক্কা, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফায় ফেলে যান, যদি কিছু সময়ের জন্যও হয় তবে তা সরিয়ে ফেলা হয়। এটা আর পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং আপনার জিনিসপত্র, বিশেষ করে আল কুরআন, অন্যান্য বইপত্র, আইডি কার্ড, অর্থকড়ি, জায়নামাজ, টাকার থলে/ব্যাগ, স্লিপার ইত্যাদি সবসময় নিজের সাথে রাখুন অথবা এমন কারও কাছে রাখুন যার কাছে নিরাপদে থাকবে।

মহিলাদের পাবলিক টয়লেটে যাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিত। মহিলারা পাবলিক টয়লেটে, চলমান সিঁড়ি অথবা দোকানপাটে আক্রমণের শিকার হতে পারেন।
নিজের অর্থকড়ি অথবা মানুষের সাথে লেনদেনের বেলায় সাবধান হোন। পকেটমারের উদাহরণ রয়েছে। দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে হজ্জের সময় কিছু মানুষ হৃদয় নাড়ানো কথা বলে হাজীদের ভোলানোর চেষ্টা করে কিন্ত্ত এগুলো সর্বৈব মিথ্যা। আল্লাহ আমাদের উপর দয়া করুন।

অধিকন্ত্ত তাওয়াফ এবং সাঈ’ করার সময়েও চুরি ও পকেটমারের ঘটনা ঘটে। সাধারণ কথায়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জিনিসপত্র রক্ষায় নিজের সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করা উচিত।

হারামাইন শরীফে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা পুলিশ দ্বারা তল্লাশীর জন্য প্রস্ত্তত থাকতে হবে। মহিলা রক্ষীগন মহিলা হাজীদের তল্লাশী করেন আর পুরুষ রক্ষীরা পুরুষদের।

সৌদি পুলিশ ও অফিসারদের সাথে তর্কবিতর্কে জড়াবেন না। আল্লাহ তাদের ও আমাদের উপর দয়া করুন, কিন্ত্ত তাদের কেউ কেউ উদ্ধত, অভদ্র আর আক্রমণাত্বক মনোভাবাপন্ন।

এটা দুঃখজনক যে, হজ্জ অভিযোগ বুথ ও সহায়তা কেন্দ্রগুলিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরবীভাষীদের নিয়োগ করা হয়।

মুতাওয়িফ প্রদত্ত মিনায় ক্যাম্পে অবস্থানের অনুমতিপত্র সাথে রাখুন (দিকনির্দেশনার জন্য জরুরী)।

বাড়ী থেকে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন শুকনো খাবার, ইয়োগার্ট বার, চকোলেট বার, পুষ্টিকর ক্র্যাকার্স/কুকিজ ইত্যাদি সাথে নিন (এই পরামর্শ একজন পরিদর্শক আমাদের সাইটে প্রদান করেছেন)।
প্রচুর পানি ও ফলের রস পান করুন। সবসময় নিজের সাথে বোতল ভরা পানি রাখুন। হজ্জের ছয়দিনে কার্বোনেটেড পানীয় ও শক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ‘লাবান’(ইয়োগার্ট), দুধ এবং ফলের রস দ্রুত শরীরে পুষ্টি যোগায়।

পরিষ্কার পায়খানা পাওয়া এখানে দুষ্কর। হাজীদের দীর্ঘ সারি প্রত্যেক পায়খানায় লেগে থাকে।

হজ্জের সময় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই স্থান ত্যাগের জন্য প্রস্ত্তত থাকুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার মুতাওয়িফ মিনায় যাওয়ার জন্য ৬ টার সময় প্রস্ত্তত থাকতে বলে, আপনি আরও আগেই যাওয়ার জন্য প্রস্ত্তত থাকবেন। যদি বাস আগেই এসে পড়ে আপনি আগেই স্থান ত্যাগ করতে পারবেন। বাস আগে আসবে কি পরে আসবে এসবই অনিশ্চিত বিষয়।

কোন কিছুতে দেরী করবেন না। কেউ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না। হাজীদের যথাসময়ে আরকান সমাপন করতে হবে এবং অগ্রসর হতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
হজ্জের ছয়দিনে নিজে নিশ্চিত থাকবেন যে আপনি প্রত্যেক আনুষ্ঠানিকতার সময় সঠিক জায়গায় অবস্থান করছেন। মক্কা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় সীমানা চিহ্নের জন্য বিশাল বিশাল স্তম্ভ রয়েছে। জায়গাগুলি জ্যামিতিকভাবে সুনির্ধারিত নয়।

যানবাহন ও মানুষের কারণে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে এবং উপলব্ধি করতে নাও পারে যে সে সঠিক অবস্থানে রয়েছে।

দিক নির্দেশনার জন্য বাস ড্রাইভারদের উপর নির্ভর করবেন না। তাদের বেশির ভাগই মিশর, তিউনিসিয়া এবং নাইজিরিয়া থেকে আগত এবং জায়গাগুলি তাদের কাছে সুপরিচিত নয়।

সবসময় প্রস্ত্ততি নিয়ে থাকবেন এবং জায়গাগুলির মধ্যে হাটাহাটির অভ্যেস রাখবেন যাতে যানজটের কারণে বা দুর্ঘটনার কারণে যানবাহন পাওয়া না গেলে প্রয়োজনের সময় আপনি সঠিক জায়গায় অবস্থান করতে পারেন। যানবাহন পাওয়া গেলেও হেটেও দ্রুত পরবর্তী অবস্থানে দ্রুত যাওয়া সহজ।

গরমের সময় ভীড়ের মধ্যে রেমী করতে যাওয়া শরীরের জন্য কষ্টদায়ক। মহিলা, শিশু, দুর্বল, অসুস্থ এবং বৃদ্ধ লোকদের জন্য রেমী করতে যাওয়া উচিত নয়। যেকোন সক্ষম লোক অন্যের হয়ে রেমী করতে পারেন। রেমী করতে যাওয়ার সময় সাথে শুধু নুড়ি পাথর, আপতকালীন অল্প কিছু টাকা, আইডি কার্ড এবং আপনার মিনায় অবস্থানের তাবু কার্ড সাথে রাখবেন। এখানে লক্ষণীয় হুড়াহুড়ি হয় এবং আপনি অতিরিক্ত জিনিসের প্রতি খেয়াল রাখতে পারবেন না।

রেমী করার সময় খুব সাবধানে থাকবেন। সৌদি পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশনা ও পরামর্শ সর্বদা মান্য করুন। যদি আপনার কিছু পড়ে যায় বা আপনার স্লিপার হারিয়ে যায় তবে নিচু হয়ে তুলতে যাবেন না। আপনি দ্রুত পদদলিত হয়ে যেতে পারেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীতে অধিকাংশ মৃত্যুই রেমী করার সময় ঘটেছে।

সর্বোপরি ধৈর্য্য ধরুন। রেমী করতে মাত্র এক মিনিট লাগে সুতরাং ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির কোন প্রয়োজন নেই। ধৈর্য্য থাকলে আপনি ইনশা’আল্লাহ সঠিকভাবেই এটা করতে পারবেন।

জমারাতের কিনারার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। যদি জমারাতের পার্শদেশে যেতে পারেন তাহলে আপনি জমারাতে পাথর মারতে পারবেন। পাথর গরাদের উপর বেশী ঝুঁকবেন না, ভীড়ের কারণে আপনি পড়ে যেতে পারেন।

অনেক দুর থেকে আপনি জমারাতে পাথর মারতে চেষ্টা করবেন না। আপনি জমারাতে আঘাত করতে ব্যর্থ হতে পারেন এবং এতে অন্য হাজীর গায়ে সে পাথর লাগতে পারে। এতে পুন্যের চেয়ে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

আপনার ট্রাভেল এজেন্ট সৌদি আরব থেকে ফেরার জন্য আপনার রিজার্ভেশন ঠিক করে রেখেছে কিনা তা নিশ্চিত হোন আর যদি তা না করে থাকে তাহলে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রাখুন অথবা সময় কাটানোর জন্য জেদ্দায় কয়েকদিন বেড়াতে পারেন। প্রতি বছর রিটার্ন ফ্লাইটগুলোর আসন বেশী মাত্রায় সংরক্ষিত থাকে এবং যারা স্থানীয় যাত্রী নন তাঁরা কয়েকদিন জেদ্দা বিমানবন্দরে পড়ে থাকতে বাধ্য হন। প্রচুর ভীড়ের কারনে জেদ্দা বিমান বন্দরের সুযোগ-সুবিধায় টান পড়ে এবং এখানে খুব বেশী সময় অবস্থান করা মোটেই আরামদায়ক নয়। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা থেকে বাসে বা ট্যাক্সিতে কষ্টকর ভ্রমণ সেরে আসার পরে।

আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা আপনার হজ্জ কবুল করুন, হজ্জের পরিপূর্ণ সওয়াব আপনাকে দান করুন এবং হজ্জব্রত পালন আপনার জন্য সহজ করুন। আমিন!

enEnglish arالعربية

Continue Reading

Trending Now

Free counters!